Bangla courses
February 3, 2023

ই-সিম কি? ই সিম এর সুবিধা ও অসুবিধা

ই সিম eSIM এর এর পূর্ণ রূপ ইলেকট্রনিক সিম (Embedded Subscriber Identity Module)। এম্বেডেড সিম কে সংক্ষেপে ই-সিম বলা হয়। ই-সিম কার্ড কোনো পিজিক্যাল সিম কার্ড নয়।

ই-সিম সাধারণ সিমের মতোই কাজ করে সেলুলার প্ল্যান ব্যবহার করতে দেয়। ই-সিম মূলত মোবাইলের ভিতরে একটি ছোট চিপ এবং NFC চিপের মতোই কাজ করে যা  Apple Pay, Google Pay এর মতো পেমেন্ট প্রযুক্তির জন্য ব্যবহার হয়। 

ই-সিম এর তথ্য একটি সাধারণ কলের মাধ্যমে আপনার অপারেটর পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।যে কোনো ডেটা প্লানে যোগ করা সহজ।মোবাইল একাউন্টের সাথে ই-সিমের ডিভাইস গুলোকে কয়েক মিনিটের মধ্যে যোগ করা যায়।

ই-সিম কি?

ই-সিম, বা এমবেডেড সিম হল একটি ভার্চুয়াল সিম কার্ড প্রযুক্তি যা গ্রাহকদের ফিজিক্যাল সিম কার্ড পরিবর্তন না করেই বিভিন্ন অপারেটর বা নেটওয়ার্কের মধ্যে পরিবর্তন করার ক্ষমতা দেয়।

এটি ব্যবহার করে আপনি সেলুলার নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত হয়ে, কল করা, বার্তা বা মেসেজ এবং ডেটা বা ইন্টারনেট ব্যবহার এবং ভয়েস ওভার আইপি পরিষেবা ব্যবহার করতে পারবেন।

বাংলাদেশে কি ই-সিম ব্যবহার করা যায়

ই-সিম ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে উপলব্ধ, বেশ কয়েকটি বড় অপারেটর ই-সিম পরিষেবা অফার করে। গ্রাহকরা তাদের পছন্দের নেটওয়ার্ক নির্বাচন করতে পারেন। এবং অপারেটরের সাহায্যে ই-সিম কার্ড সক্রিয় করতে পারেন। এই প্রযুক্তিটি এখন সারা দেশে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং প্রতিদিন জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

১ মার্চ ২০২২ তরিখে গ্রামীণফোণ আনুষ্ঠানিকভাবে ই-সিম চালু করেছে। আন্তর্জাতিক অপারেটর ব্যবহার করে ই-সিম ব্যবহার করা যাবে।বাংলাদেশে ই-সিম ব্যবহার করার জন্য ডেটা প্ল্যান এবং প্ল্যানের সুবিধা রয়েছে। বর্তমানে আপনি বাংলাদেশে থেকেও ই-সিম ব্যবহার করতে পারবেন।

অপারেটরের কাছ থেকে ই-সিম কিনলে তারা আপনাকে একটি কিউআর (QR code) কোড দিবে। এই QR code স্ক্যান করলে আপনার মোবাইল ফোনটি অপারেটরের ডাটাবেজে সংরক্ষণ করে নেবে। অর্থাৎ, ই-সিম ইনস্টল হয়ে যাবে।

কিভাবে ই-সিম পাওয়া যায়

আপনি একটি ই-সিম ব্যবহার করতে চাইলে গ্রামীণ ফোনের ওয়েবসাইট ও অ্যাপ ব্যবহার করে একটি E SIM কিনতে পারবেন। আর্ন্তজাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য সেরা E SIM ডেটা প্ল্যানের মাধ্যমে আপনার যোগাযোগ খরচ সাশ্রয় করতে পারবেন। 

আপনি আপনার নরমাল সিমটি ই-সিম মাইগ্রেশন করতে পারবেন। ই-সিম মাইগ্রেশন পরিষেবা আপনি অনলাইন ও অফলাইন উভয়ভাবেই ক্রয় বা মাইগ্রেট করতে পারেন। তবে এই সেবা শুধুমাত্র ঢাকা শহরের মেট্রোপলিটন এলাকার পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় গ্রামীণ ফোনের eSIM মাইগ্রেশন চার্জ:

থেকে ক্রয়3G থেকে 4G eSIM মাইগ্রেশন4G থেকে 4G eSIM মাইগ্রেশন
অনলাইন অর্ডারবিনামূল্যে199 টাকা
জিপি টাচ পয়েন্ট/ সার্ভিস সেন্টার199 টাকা199 টাকা

ই-সিম পরিষেবা কি ব্যয়বহুল

ই-সিম মোবাইল ডেটার জন্য খরচ সাধারণ সিমের মতই। তবে এটি অনেক ব্যয়বহুল হতে পারে যদি ই-আন্তর্জাতিক রোমিং পরিষেবাগুলো ব্যবহার করে। বাংলাদেশি অপারেটর এবং ইএসআইএম সমর্থন প্রদানকারী অপারেটরদের থেকে বেশি চার্জ নেওয়ায় ই-সিম ব্যবহার করার খরচ বেশি।

ই-সিম সাপোর্টিং মোবাইল

ই-সিম কিছু কিছু মোবাইলে ব্যবহার করা যায়। যেমন- Apple মোবাইলের মধ্যে রয়েছে iphone XR, iphone 11pro, iphone 12,  iphone13, iphone14 এসব সিরিজের মোবাইলে ই-সিম ব্যবহার করা যায়।

Samsung  মোবাইলের মধ্যে রয়েছে Samsung galaxy S 20,  Samsung galaxy S21, Samsung galaxy Note 20 এবং Samsung galaxy Z Fold এসব সিরিজের মোবাইলে ই-সিম ব্যবহার করা যায়। 

Google Pixel  মোবাইলের মধ্যে রয়েছে Google Pixel 3, Google Pixel 3a, Google Pixel 4, Google Pixel 4a, Google Pixel 5, Google Pixel 5a এবং Google Pixel 6 pro এসব সিরিজের মোবাইলে ই-সিম ব্যবহার করা যায়। 

ই-সিম এর সুবিধা

ই-সিম সাধারণত অরজিনাল ফিজিক্যাল সিম কার্ড ঢোকানো বা প্রতিস্থাপন না করে ও নেটওয়ার্কের সেবা নেওয়া যায়। একই সাথে অনেক গুলো ই-সিম ব্যবহার করা যায় একটি মোবাইলে। একাধিক ই-সিম প্রোফাইলে সংরক্ষণ করা যায় এবং সুবিধা মতো যে কোনোটা যে কোনো সময়ে ব্যবহার করা যায়।

ই-সিম মোবাইলে একটি ডুয়াল সিম ফোনের মতো কাজ করে, একটি ফিজিক্যাল সিম এবং একটি ই-সিমের সংমিশ্রণে। ডুলার সিম অপশন টি আপনাকে একটি মোবাইলে দুটি ফোন নাম্বার সুবিধা দেয়।

কোনো ভ্রমণকারী বিশ্বের যে কোনো স্থানে ভ্রমণ করা কালীন ই-সিম এর সাভিসং বিরামহীনভাবে মোবাইল সংযোগ পাবে। ই-সিমের এর মাধ্যমে মোবাইল অপারেটরগুলোর মধ্যে সুইচ করা যায়। এর ফলে ই-সিমের মাধ্যমে বিরামহীন বিশ্ব সংযোগ এর আওতায় থাকা যায়।

আপনি আলাদা ব্যাক্তিগত এবং ব্যবসায়িক নাম্বার ব্যবহার করতে পারবেন। বাংলাদেশে সিমগুলো মধ্যে যেমন রবি,গ্রামীণ,বাংলালিংক,এয়ারটেল সিমগুলোর মধ্যে গ্রামীণফোনে ই-সিম সার্ভিসটি আপনি খুব ভালো পাবেন।

ই-সিম এর অসুবিধা

যদি কোনো ফোন ভেঙ্গে গেলে বা নষ্ট হয়ে যায়, সেই ফোন থেকে সিমটি খুলে অন্য ভালো একটি ফোনে চালু করা যায় ,কিন্তু এটি ই-সিম এর ক্ষেত্রে নয়। আপনাকে ক্লাউড থেকে আপনার ই-সিম টি প্রোফাইল পুনরুদ্ধার এবং ডাউনলোড করতে হবে।

আপনি যখন আপগ্রেড করবেন তখন এটি একটি নতুন মোবাইলে স্থানান্তর করতে যত বেশি সময় নেয় তার থেকে ও বেশি সময় নেয়।

নেটওয়ার্ক প্রদানকারীদের দ্বারা ই-সিম ব্যবহারকারীদের আরোও সহজে ট্র্যাক করা যায়।ই-সিম ব্যবহার না করা ব্যাক্তিরা তাদের মোবাইল থেকে সিমটি খুলে রাখতে পারে এতে তাকে ট্র্যাক করা যায় না। এর ফলে তার গোপনীয়তা রক্ষা পায়।

যদি কোনো মোবাইল বিক্রি করে দেওয়া হয়, তবে এটি সম্ভব হ্যান্ডসেট সবার জন্য উন্মুক্ত না হয়ে একটি নিদির্ষ্ট নেটওর্য়াকের সাথে প্রি-লোড হতে পারে। ই-সিম মোবাইল দিয়ে সহজে পাল্টানো যায় না নেটওয়ার্কের লোকদের সাথে যোগাযোগ না করে। প্লাস্টিকের সিম কার্ড যে কোনো মোবাইলে ব্যবহার করা যায় কিন্তু ই-সিম কিছু নির্দিষ্ট মোবাইল ছাড়া ব্যবহার করা যায় না।

পরিশেষে, ই- সিম কার্ড ম্যানুয়াল ইনপুট না করেই, যে কোনো মোবাইলে ইলেকট্রনিক ভাবে প্রোগ্রাম করা যায়। ই-সিম GSMA মোবাইল নেটওর্য়াকের এ্যাসোসিয়েশনের দ্বারা সমর্থিত এবং সেই সংস্থাটি বিশ্বব্যাপী ই-সিম এর মান নির্ধারণ করে।দিন দিন ই- সিম ব্যাবহারীর সংখ্যা বাংলাদেশে প্রতিযোগিতামূলকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আরও পড়ুন

February 5, 2023
মোবাইল হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় কেন ও সমাধান
কেন মোবাইল ডিভাইসগুলো হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়? এটি একটি সাধারণ সমস্যা যা বিভিন্ন কারণে হতে…
February 3, 2023
হারানো মোবাইল খুজে পাওয়ার উপায় (IMEI দিয়ে চোর ধরার উপায়)
বর্তমান যুগে জিপিএস, একটি সিম কার্ড বা ইন্টারনেট ব্যবহার ছাড়া আপনার হারিয়ে যাওয়া ফোনটি সনাক্ত…
August 8, 2022
মোবাইল ফোন কে আবিষ্কার করেন ও মোবাইল আবিষ্কারের ইতিহাস
মোবাইল ফোন কে আবিষ্কার করেন? উত্তরঃ ১৯৭৩ সালে মার্টিন কুপার (MARTIN COOPER) সালে প্রথম সেলফোন…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram
Share via
Copy link